বাংলাদেশের জন্মকথা -রওনক নূর

চন্দনাকে ইদানিং খুব বিরক্ত দেখায় সবসময়। ওর অভিযোগ ছিল অনুপ ওকে আর আগের মত ভালোবাসেনা। অনুপ চন্দনার কথা গ্রামের সবাই জানে। ছোট বেলা থেকে অনুপ-চন্দনা একসাথে বড় হয়েছে, লেখাপড়া করেছে। পাশাপাশি বাড়ী হবার জন্য একসাথে বেড়ে উঠা ওদের। উচ্চ মাধ্যমিক শেষ হবার পর চন্দনা থেকে যায় গ্রামে আর অনুপকে উচ্চ শিক্ষার জন্য পাঠানো হয় ঢাকায়। প্রথমে অনুপ যেতে চায়নি চন্দনাকে ছেড়ে। দুই পরিবারের সম্মতিক্রমে ওদের বিয়েও ঠিক হয়ে আছে। মেয়ের বয়স যথেষ্ট হয়েছে ভেবে চন্দনার বাবা-মাও খুবই চিন্তিত ছিলেন। তবে অনুপের বাবা-মা ও চায় ওদেরকে এক করতে। মোটামুটি জোর করেই অনুপকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চ শিক্ষার জন্য পাঠানো হয়। প্রথমদিকে প্রতি মাসে বাড়িতে আসত আর চন্দনাকে চিঠি লিখতো প্রতিদিন। বেশ কিছুদিন হল অনুপ যেন কেমন পরিবর্তন হয়ে গেছে। চিঠি লেখাতো দুরে থাক বাড়িতে আসার কথাও ভুলে গেছে। গত ছয় মাসে একবারো বাড়ীতে আসেনি অনুপ। চন্দনাও অভিমান করে আর চিঠি লিখেনা। এদিকে চন্দনার আর অনুপের বাবা-মা ব্যস্ত হয়ে উঠেছে ওদের বিয়ের জন্য। কি যে করছে ছেলেটা তা নিয়ে সাধন পালের চিন্তার শেষ নেয়। সাধন পাল অনুপের বাবা। ঢাকায় গিয়ে শুনে আসছে ছেলে তার নাকি কি সব রাজনীতিতে জড়িয়ে গেছে। আজকাল কি যে সব অধিকার নিয়ে কথা বলে ছেলেটা সাধন পাল তা বুঝতেও পারেনা। এদিকে মাধবী (অনুপের মা) ছেলেকে দেখার জন্য পাগলপ্রায়। কতদিন ছেলেটাকে দেখেনা, এজন্য অনুপের বাবাকে বলে ছেলেকে চিঠি পাঠাতে যেন তাড়াতাড়ি গ্রামে চলে আসে। দুইবার চিঠি পাঠিয়েও অনুপকে আনা গেলনা গ্রামে। বাধ্য হয়ে সাধন পাল অনুপকে মিথ্যা বলে চিঠি পাঠান “তোর মা ভীষন অসুস্থ তাড়াতাড়ি বাড়ি চলে আয়।” মায়ের অসুস্থতার কথা শুনে অনুপ বাড়িতে আসে এবং এসে দেখে বাবা তাকে মিথ্যা লিখেছে, তার মা সুস্থই আছেন। এতদিন পর ছেলেকে পেয়ে মাধবী জড়িয়ে ধরে কাঁদতে থাকে। তাই অনুপ তাকে আর কিছু বলতে পারেনা।
দুই দিন হয়ে গেল অনুপ বাড়ীতে এসেছে। কিন্তু চন্দনার কোন দেখা নায়। অনুপ অবশ্যই জানে কতটা অভিমান করেছে মেয়েটা। মেয়েটা যে তাকে খুব বেশি ভালবাসে। বিকালে গৌতম-বিদিশা আসছিলেন অনুপের সাথে দেখা করতে। তারা পরিস্কার বলে দিয়ে গেছেন যে এইবার অনুপ চন্দনাকে বিয়ে না করলে তারা অন্য জায়গায় বিয়ে দিয়ে দিবে। এটা শুনে অবশ্য অনুপ কিছু মনে করেনি কারন সব বাবা-মায়েরই বিবাহ উপযুক্ত কন্যা থাকলে চিন্তা হয়। তার উপর গ্রামের লোকতো আর কথা শুনাতে কম করেনা। তবে অনুপ অবাক হয়েছিল যে মেয়েটা তার বাড়ী আসার কথা শুনলে পাগলের মত ছুটে আসতো সে আজ তার বাবা মায়ের সঙ্গেও আসলোনা। খুব কষ্ট পেয়েছে মেয়েটা।
চন্দনা ঘরে দরজা লাগিয়ে ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাঁদছিলো। অনুপ ওদের বাড়ীতে এসেই ওর ঘরের দিকে গেল। দরজা বন্ধ দেখে অনেক্ষন ধরে ডাকতে থাকলো। ভিতর থেকে চন্দনা কোন উত্তর দিলনা। যখন অনুপ বললো, “থাক তুই, আর তোকে ডাকবোনা” কথাটা শুনে দৌড় দিয়ে চন্দনা দরজা খুলে অনুপের হাতটা ধরে ঘরে টেনে আনলো। তারপর জড়িয়ে ধরে কাঁদতে থাকলো। অনুপের মনে হচ্ছিলো অনেকদিন ধরে জমে থাকা কালো মেঘ যেন আজ বৃষ্টি হয়ে ঝরছে। আধা ঘন্টা চলতে থাকলো চন্দনার বৃষ্টি ঝরানো। অনুপ চন্দনাকে বুঝিয়ে বললো যে কেন সে চিঠি লেখার সময় পায়নি আর কেনই বা সে বাড়িতে আসতে পারেনা। দেশের অবস্থা ভালনা পশ্চিম পাকিস্থানিদেও অত্যাচার দিনে দিনে বেড়েই চলছে। পাকিস্থান রাষ্ট্রের জন্মের পর থেকেই পশ্চিম পাকিস্থান বাঙ্গালি জনগনের উপর শুরু করে অত্যচার আর নিপীড়ন এবং বঞ্চিত করে তাদের নায্য অধিকার থেকে। কিন্তু আর কতদিন আমরা বাঙ্গালিরা অত্যচারিত হব। তাই আমাদের অধিকার আদায়ে পশ্চিম পাকিস্থানের বিরুদ্ধে রুখে দাড়াতে হবে। আমরা মা ও মাটিকে রক্ষার প্রয়াসে প্রচেষ্টা চালাচ্ছি। আর নিজেদেরকে বিলিয়ে দেবনা, অধিকার আদায়ে জীবন দিয়ে হলেও এদেশকে রক্ষা করব। সব কথা শুনে চন্দনার চোখে জ্বল চলে আসলো। চন্দনা বলে, আমাকে ক্ষমা কর অনুপ আমি তোমাকে শুধু শুধু ভুল বুঝেছি। আর আমি সবসময় তোমার সাথে আছি। এদেশকে রক্ষা করা আমার, তোমার, আমাদের সকলের দায়িত্ব।

রাতে বাবা-মায়ের সাথে খেতে বসেছে অনুপ। মাধবী অনুপকে বললো এবার তোকে বিয়ে করতেই হবে। আর এসব অধিকার, সংগ্রাম,আন্দলোন বাদ দিয়ে এবার নিজের জন্য একটু ভাব। অনুপ কিছুক্ষন চুপ করে রইলো আর তারপর যা বললো তাতে মাধবীর আর কিছু বলার ছিলনা। অনুপ বললো “মাগো তুমি অসুস্থ শুনে পাগলের মত ছুটে এসেছি। আর তুমিই তো শিখিয়েছিলে এদেশ আমার মাতৃভূমি, আমার মা। তাহলে মাকে বিপদে রেখে আমি কিভাবে শান্ত থাকতে পারি বলতে পারো।” মাধবী কিছুই বলেনি আর, চুপচাপ ওরা খাওয়া শেষ করলো।

হঠাৎ দেশের অবস্থা খারাপ হয়ে যাওয়ায় চন্দনার নিরাপত্তার কথা ভেবে তার বাবা-মা মেয়ের বিয়ের জন্য সাধন পালকে জোরাজোরি করতে লাগলো। অনুপকে বিষয়টা জানানো হলে সবকিছু বিবেচনা করে বিয়ে করতে সম্মত হয়। বিয়ের পর স্বপ্নের মত চলছিল ওদের এক একটা দিন। ১লা মার্চ ১৯৭১ সালে বিয়ে হয় অনুপ-চন্দনার। পাগলের মতো ভালবাসতো দুজন দুজনাকে। এরমাঝে ঢাকার অবস্থা খারাপ হতে থাকে। পশ্চিম পাকিস্থানিরা যে কোন সময় আক্রমন করবে । এর মধ্যে ২৫ মার্চ মধ্যরাতে পাকিস্থানিরা ঢাকায় বর্বর আক্রমন শুরু করে প্রতিবাদে বাঙ্গালিরা পাল্টা আক্রমন শুরু করলে শুরু হয়ে যায় যুদ্ধ । যুদ্ধের কিছুদিন যেতেই ১০ই এপ্রিল গঠন করা হয় বাংলাদেশের প্রথম সরকার যা ‘মুজিবনগর সরকার’ নামে পরিচিত। ‘মুজিবনগর সরকার’ গঠনের পর মুক্তি যদ্ধেও গতি বৃদ্ধি পায়। সকল শ্রেনির বাঙ্গালিরা দেশকে শত্রুমুক্ত করার জন্য সশস্ত্র সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ে। এই অবস্থায় অনুপও আর ঘরে বসে থাকতে পারেনা। চন্দনা নিজেই দেড়মাস বিয়ে হওয়া স্বামীকে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠিয়ে দেয়। শুধু অনুপকে বলে, “কথা দাও লাল সবুজের পতাকা নিয়ে ফিরে আসবে।” যুদ্ধে যাবার আগে অনুপ বাড়ী থেকে সুসংবাদ শুনে যায়। ঘরে যে তার নতুন অতিথি আসবে। 

শুরু হয়ে যায় রক্তক্ষয়ি যুদ্ধ, এদেশটাকে শত্রুমুক্ত করবার যুদ্ধ। লাল সবুজের বিজয়ী পতাকা নিয়ে ফিরে আসবে বাংলার দামাল ছেলেরা এটাই সবার আসা। হায়েনারা বাঙ্গালির রক্তচুষে নিতে মত্ত হয়ে উঠে। অনুপ ও সবার মত শপথ নিয়েছে রক্ত দিয়ে হলেও রক্ষা করবে এদেশটাকে। মনে জিদ আর যুদ্ধ জয়ের আকাঙ্খা থাকলেও চোখের সামনে ভেসে উঠে প্রিয়তমার মুখখানা। কি করছে অসুস্থ শরীরের মেয়েটা। নতুন অতিথি আসবে যখন তখনতো তার স্বামীর বুকে থাকার কথা ছিল। অথচ দেশের জন্য সে তার নিজের সুখ-শান্তি বিসর্জন দিয়ে স্বামীকে যুদ্ধে পাঠিয়েছে।

বেশ কয়েকবার শত্রুবাহীনি অনুপের খোজে ওদের বাড়ীতে এসেছে। অনেক শাসিয়ে গেছে অনুপের বাবা-মা আর স্ত্রীকে। এদিকে চন্দনার শরীরও বেশ ভারী হয়ে গেছে। সবাই সব সময় ভয়ে ভয়ে থাকে কখন কি হয়। ১৪ই ডিসেম্বর ১৯৭১, সকাল থেকে অনুপের মনটা বেশ খুশি ছিল। নয় মাস রক্তক্ষয়ি যুদ্ধে জয়ি হয়েছে বাঙ্গালী। চন্দনাকে কখন দেখতে পাবে সে। অন্যদিকে আজ সকালেই চন্দনা হঠাৎ অসুস্থ হয়ে গেছে। সাধন পাল তাড়াতাড়ি মাসি ডাকতে যায়। মাসি চন্দনার ঘরে ঢুকে। 

১৪ই ডিসেম্বর ১৯৭১, পশ্চিম পাকিস্থানিরা নিশ্চিত হেরে যাবে বুঝতে পেরে এদেশের সব গুনিজন, লেখক, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়র এবং মেধাবীদের ধরে নিয়ে যায়। এদেশটাকে মেধাশুন্য করার জন্য সবাইকে নিঃশংসভাবে হত্যা করে। এদিন অনুপকেও সন্ধ্যা ছয়টা পয়তাল্লিশ মিনিটে তুলে নিয়ে যায় পশ্চিম পাকিস্থানি হায়েনারা। লাল-সবুজের স্বাধীন দেশটাকে দেখা হয়না আর অনুপের। রক্তের দাম দিয়ে কিনে দেয় এদেশটাকে আমাদের জন্য। সবুজ এ দেশে রক্ত দিয়ে লাল হয়ে, লাল-সবুজ এর দেশের জন্ম দেয়, নাম তার বাংলাদেশ। এদিকে মাসি ঘর থেকে বের হয়ে সবাইকে খবর দেয় চন্দনা- অনুপের ঘর আলো করে এক ফুট ফুটে কন্য জন্ম নিয়েছে।
এই কন্যা আর কেউ নয়, এটা আমাদের বাংলাদেশ।

“ভয়ংকর রা‌ত্রি”

রওনক নূর
 
কাব্য অার নুসরাত দাদাবাড়ী যাওয়ার জন্য খুব ব্যস্ত হ‌য়ে গে‌ছে। ছোট বেলা থে‌কে বাবা – মা কত ঘু‌রি‌য়ে‌ছে ও‌দের দেশ বি‌দেশ। শুধু দাদাবাড়ী কখনও যে‌তে দেয়‌নি। বিশাল রাজবাড়ী ও‌দের। কিন্তু ও‌দের দাদা-দাদীও চায়না ওরা ওখা‌নে যাক। কিন্তু এবার ওরা যা‌বেই। অ‌নেক ক‌ষ্টে বাবা-মা‌য়ের অনুম‌তি নি‌য়ে রওনা হল ওরা। পৌছা‌তে রাত হ‌য়ে গে‌লো। অন্ধকার অার ঝি‌ঝি পোকার ঝিঁ ঝিঁ শ‌ব্দে বেশ রহস্যময়ী লাগ‌ছে গ্রামটা‌কে। দেখ‌লো একজন লোক ও‌দের নি‌তে অাস‌ছে। অন্ধকা‌রে হা‌রি‌কেন হা‌তে। উ‌নি বল‌লেন কেন এ‌সে‌ছো? খুব অবাক হ‌লো ওরা। অার কোন কথা হলনা। উনার পেছন পেছন চল‌তে থাক‌লো ওরা। অব‌শে‌ষে পৌছা‌লো ওরা দাদাবাড়ী ।
জোছনার অা‌লোয় চকচ‌ক কর‌ছি‌লো ও‌দের রাজবাড়ী। এত সুন্দর মহল অার বাবা-মা ও‌দের‌কে কখনো অাস‌তে দেয়‌নি ভে‌বে রাগ হ‌চ্ছি‌লো ও‌দের। সব‌কিছুই ভা‌লো ছি‌লো শুধু বিদ্যুত নেয় এ গ্রা‌মে। দুই ভাই‌বোন মি‌লে অন্ধকা‌রে জোছনা উ‌পো‌ভোগ কর‌ছি‌লো। হঠাৎ কর্কশ ক‌ন্ঠে কে যেন ব‌লে, “বা‌হি‌রে বের হ‌বেননা।” হঠাৎ এমন শু‌নে কেঁ‌পে উ‌ঠে ওরা। দে‌খে যে লোকটা ও‌দের এ‌নে‌ছে উ‌নিই কথা বল‌ছেন। কাব্য ক্ষে‌পে যে‌য়ে বল্ল এভা‌বে ভূ‌তের মত কেউ কথা ব‌লে। লোকটা কিছুক্ষন চুপ ক‌রে থে‌কে ব‌লে এ বাড়ীর চা‌রি‌দি‌কে পাপ, তাই সাবধান করলাম। অামা‌কে ছাড়া কেউ বা‌হি‌রে যা‌বেননা। সাম‌নেই কা‌লি ম‌ন্দির, ভয় পে‌তে পা‌রেন। লোকটা একটা পাগল, কি সব ব‌লে। কিছুই বিশ্বাস ক‌রে‌নি ওরা। শি‌তের কনক‌নে রাত, খুব ঠান্ঠা লাগ‌ছি‌লো ও‌দের। কিছুক্ষন পর সেই লোকটা এ‌সে ও‌দের কম্বল দি‌য়ে গে‌লো। লোকটা বেশ অদ্ভুত দেখ‌তে, দেখ‌লেই ভয় লা‌গে। ভয় পা‌চ্ছি‌লো দুজনই, কিন্তু কেউ কাউ‌কে বল‌ছি‌লোনা। অদ্ভুত লোকটা বার বার অাস‌বে ভে‌বে নুসরাত কাব্য‌কে দরজা লা‌গি‌য়ে দি‌তে ব‌লে। কাব্য দরজা লা‌গি‌য়ে দেয়। দুজন কম্বল নি‌য়ে শু‌য়ে প‌ড়ে। সা‌থে সা‌থে অাবার দরজায় ঠকঠক শব্দ। কাব্য ব‌লে নিশ্চয় ওই বা‌জে লোকটা অাবার অাস‌ছে। দরজা খুল‌তেই দে‌খে সেই লোকটা। বল‌লেন এই শী‌তে খেজু‌রের র‌সের মজাই অালাদা, চলুন রস পে‌ড়ে অা‌নি গা‌ছের থে‌কে। কাব্য শু‌নে‌ছি‌লো গ্রা‌মে শী‌তের দি‌নে রা‌তে গাছ থে‌কে খেজু‌রের রস পে‌ড়ে খাওয়ার মজাই অালাদা। সে এটা‌কে মিস কর‌তে চায়‌লোনা। নুসরাতকে রে‌খেই সে চ‌লে গে‌ল লোক‌টির সা‌থে। নুসরাত‌কে ব‌লে গেল একটু অ‌পেক্ষা কর‌তে , ও এক্ষু‌নি চ‌লে অাস‌বে।
কাব্য লোক‌টির পিছ পিছ হাট‌তে লাগ‌লো। পথই যেন শেষ হ‌চ্ছেনা। ত‌বে জোছনা রা‌তে গ্রা‌মে হাট‌তে ভা‌লো লাগ‌ছে তার। ত‌বে নুসরা‌তের জন্য একটু চিন্তা হ‌চ্ছে তার। হয়‌তো বোনটা তার একা একা ভয় পা‌চ্ছে। কিছুদুর যে‌তেই যে‌তেই একটা ম‌ন্দির দেখ‌তে পায় কাব্য, অার শুন‌তে পায় ঢোল অার নুপু‌রের শব্দ। লোকটা ব‌লে ভয় পে‌য়ে‌ছেন, ওখা‌নে অাজ তারা উৎসব কর‌ছে। কারা উৎসব কর‌ছে সেটা কাব্য অার শুন‌লোনা। অাল্লার না‌মে হাট‌তে থাক‌লো। কিছুক্ষন পর বাচ্চা‌দের কান্নার অাওয়াজ শুন‌তে পেল কাব্য। ম‌নে হ‌চ্ছে অ‌নেকগু‌লো বাচ্চা একসা‌থে কাদ‌ছে। অা‌স্তে অা‌স্তে কা‌ব্যের ভয় বাড়‌তে থাক‌লো। যত সাম‌নের দি‌কে যা‌চ্ছি‌লো ত‌তো কান্নাটা বে‌শি বে‌ড়ে যা‌চ্ছিল। কাব্য লোক‌টির দি‌কে তাকা‌তে দেখ‌লো লোক‌টি হাস‌ছে। কি ঘট‌তে যা‌চ্ছে কিছুই বুঝ‌তে পার‌ছি‌লোনা । ও ভাব‌ছিল নাজা‌নি বোনটার সা‌থে কি ঘট‌ছে। কা‌ব্যের বু‌কের ভেতর কেমন জা‌নি হ‌চ্ছি‌লো। হঠাৎ কাব্য অনুভব কর‌লো কান্না থে‌মে গে‌ছে। ওরা একটা নদীর ধা‌রে পৌ‌ছে গে‌লো। চা‌রি‌দি‌কে পোড়া গন্ধ, ছমছ‌মে প‌রি‌বেশ। এবার অার সে থে‌মে থাক‌তে পার‌লোনা। লোকটা‌কে বল্ল কোথায় যা‌চ্ছি অামরা? হেঁসে উ‌ঠে লোকটা ব‌লে অার যা‌চ্ছিনা অামরা, চ‌লে অাস‌ছি।
কাব্য জোর গলায় প্রশ্ন করল কোথায় এ‌সে‌ছে সে অার উত্ত‌রে লোক‌টি হে‌সে উ‌ঠে ব‌লে এ‌টি শ্বশান ঘাট।
খুব চিন্তা হ‌চ্ছি‌লো নুসরা‌তের। ভাইয়া কোথায় গে‌লো, এখনও অাস‌ছেনা। দরজায় ঠকঠক শব্দ শু‌নে ভাব‌লো ভাইয়া হয়ত চ‌লে অাস‌ছে। দরজা খুল‌তেই দেখ‌লো সেই লোক‌টি, সা‌থে তার ভাইয়া নেয়। লোক‌টির কা‌ছে নুসরাত শু‌নে যে তার ভাইয়া কোথায় অার উত্ত‌রে লোক‌টি ব‌লে যে সে জা‌নেনা কাব্য কোথায়। অার এটাও ব‌লে যে সে এখা‌নে ছি‌লোনা অার কাব্য‌কেও খেজু‌রের রস পাড়‌তে ডা‌কে‌নি। লোক‌টি নুসরাত‌কে ব‌লে এক্ষু‌নি তার সা‌থে যে‌তে , তা না হ‌লে হয়ত তার ভাই‌কে অার খু‌জে পাওয়া যা‌বেনা। নুসরাত অার সেই লোক‌টি মি‌লে শ্বশান ঘা‌টে গি‌য়ে দেখ‌লো কাব্য অঙ্গান হ‌য়ে প‌ড়ে অা‌ছে।
নুসরাত চিৎকার ক‌রে ভাইয়া ভাইয়া ব‌লে ডাক‌তে থাক‌লো। নুসরা‌তের চিৎকা‌রে কাব্য ঘুম ভে‌ঙে উঠ‌লো। বুঝ‌তে পার‌লো সে স্বপ্ন দেখ‌ছি‌লো এতক্ষন। নুসরাত কাব্য‌কে জানা‌লো গ্রাম থেকে কেয়ার‌টেকার অাস‌ছে তা‌দের নি‌তে, তাড়াতা‌ড়ি রে‌ডি হ‌য়ে নি‌তে ব‌লে। কাব্যের ম‌নে প‌ড়ে অাজ ও‌দের গ্রা‌মে যাবার কথা ছি‌লো তাই হয়ত রা‌তে এমন স্বপ্ন দেখ‌ছে। কাব্য রে‌ডি হ‌য়ে ড্রইং রু‌মে যেতেই অবাক হ‌য়ে গে‌লো। গ্রাম থে‌কে যে লোক‌টি অাস‌ছে তা‌দের নি‌তে সে অার কেউ নয়, এটা তার স্ব‌প্নে দেখা সেই লোক‌টি। কাব্য‌কে দে‌খে লোক‌টি রহস্যময় হা‌সি দি‌য়ে ব‌লে, ” ভয় পে‌য়ে‌ছেন না‌কি স্যার”।

“রা‌ফি”

রওনক নূর

রা‌ফির চোখ অাজ জ্বলজ্বল কর‌ছে। ঢাকা শহ‌রের ফ্লাট বাসার ডাই‌নিং টে‌বি‌লে সে দেখ‌ছে তার গ্রা‌মের খাল‌বি‌লে ভে‌সে থাকা পা‌নি ফল। শাপলা ফু‌লের পা‌নি পা‌নি গন্ধ অাজ পে‌য়ে‌ছে সে কং‌ক্রি‌টে গড়া শহ‌রের তার মা‌লি‌কের বাসার ডাই‌নিং টে‌বি‌লে। মাস খা‌নেক অা‌গে রা‌ফি গ্রাম থে‌কে এই অাজব ঢাকা শহ‌রে অাস‌ছে। কি অাজব কান্ড, কত বড় বড় বি‌ল্ডিং অার মানুষ গু‌লো যেন অালাদা রকম। সব কিছুর মা‌ঝে রা‌ফির ম‌নে প‌ড়ে তার গ্রাম অার মা‌কে, তার মা‌য়ের শরী‌রের গন্ধ‌কে। মা‌য়ের শরী‌রের গন্ধ তো তার ভু‌লে যাবার কথা, তারপর কেন যে ম‌নে প‌ড়ে সেটা হয়ত সৃ‌ষ্টিকর্তাই বল‌তে পা‌রেন।

ছোট্ট ছয় বছ‌রের মে‌য়ে রা‌ফি । অামা‌দের বাড়ীওয়ালার বাসায় কাজ ক‌রে। অবাক হ‌চ্ছেন? অবাক হবার কিছুই নায়। এছাড়া অার কি জুট‌বে এসব বাবা-মা ছাড়া একা একা বড় হওয়া বাচ্চা‌দের।

র‌হিমা না‌মের অসহায় গ্রাম্য মে‌য়ে‌টির যখন বি‌য়ে হ‌চ্ছিলনা তখন এলাকায় কামলার কাজ কর‌তে অাসা অাবদুল সবু‌রের সা‌থে তার বি‌য়ে হয়। অাবদুল সবুর সেখা‌নে এ‌সে‌ছিল সি‌জিনাল কাজ কর‌তে। কিছু দিন যে‌তে না যে‌তেই র‌হিমা গর্ভবতী হয়। এরই ম‌ধ্যে অাবদুল সবু‌রের এলাকার কাজ শেষ হয় অার সা‌থে সা‌থে মি‌টে যায় তার শরী‌রের চা‌হিদা। শুরু হয় র‌হিমার উপর নানা নির্যাতন। অার হঠাৎ এক‌দিন কাউ‌কে কিছু না ব‌লে অন্তঃস্বত্তা র‌হিমা‌কে রে‌খে সে কোথায় জা‌নি চ‌লে যায়। প‌রে র‌হিমা জে‌নে‌ছিল তার স্বামীর অা‌গের একজন বউ অা‌ছে। র‌হিমা তা‌তে দুঃখ পায়‌নি কারন গরীব‌দের দুঃখ বিলাস কর‌লে পে‌টে ভাত জু‌টে না। অন্তস্বত্তা শরী‌রে র‌হিমা বের হয় ঘর থে‌কে যুদ্ধ কর‌তে, ভাত জুটা‌নোর যুদ্ধ। কিছু‌দিন পরই জন্ম নি‌লো র‌হিমার অারও এক‌টি খাবার মুখ, তার নাড়ি ছেড়া ধন, তার সন্তান, রা‌ফি।

লিক‌লিকা কা‌লো চেহারার বাচ্চা রা‌ফি। কিভা‌বে ভা‌লো হ‌বে? র‌হিমা যে খে‌য়ে না খে‌য়ে দশ মাস গ‌র্ভে রে‌খে‌ছে তার বাচ্চাটা‌কে। তার ভাঙা ঘ‌রে নতুন অ‌তি‌থির অাগমন তা‌কে সুখ দেয়‌নি। নি‌জের খাবার জোটা‌তে যে অপারগ সে কিভা‌বে অার একটা মু‌খে অন্ন দি‌বে। ত‌বে বাচ্চা‌কে দে‌খে সে নতুন ক‌রে সংগ্রাম করার শ‌ক্তি পেল। বাচ্চা জ‌ন্মের পর র‌হিমা অাবদুল সবুর‌কে খবর দেবার চেষ্টা করল। র‌হিমা ভাব‌লো সন্তা‌নের কথা শু‌নে হয়ত তার স্বামী ফি‌রে অাস‌বে। কিন্তু অাস‌লোনা ফি‌রে তার স্বামী।

শুরু হল র‌হিমার ছোট্ট মে‌য়ে‌কে নিয়ে বেঁচে থাকার লড়ায়। ত‌বে কাজ কর‌তে গে‌লে বাচ্চা দে‌খে কেউ কা‌জে নি‌তে চায়‌তোনা র‌হিমা‌কে। তাই ছোট্ট রা‌ফি‌কে ঘ‌রে রে‌খে কা‌জে যে‌তে হত র‌হিমা‌কে। পুরু‌ষের সা‌থে পাশাপা‌শি র‌হিমা মা‌ঠেও কাজ ক‌রে‌ছে। অক্লান্ত প‌রিশ্রম ও র‌হিমার সন্তা‌নের মু‌খে অন্ন দি‌তে সক্ষম ছিলনা ।

অ‌নেক পুরুষ তা‌দের কামনা মেটা‌তে র‌হিমা‌কে ব্যবহার কর‌তে চে‌য়ে‌ছিল। কিন্তু সে সব‌কিছু থে‌কে নি‌জে‌কে রক্ষা ক‌রে‌ছে শুধু রা‌ফি‌কে নি‌য়ে বাঁচার জন্য। অ‌নেক লোভনীয় প্রস্তাব ও র‌হিমা পে‌য়ে‌ছে। এ‌দের ম‌ধ্যে একজন ছিল অালমগীর। র‌হিমা যে বাড়ী‌তে বুয়ার কাজ করত সেখা‌নে অালমগীর ও কাজ করত। র‌হিমা‌কে সে বি‌য়ে কর‌তে চায় অার সা‌থে রা‌ফির ও দা‌য়িত্ব নি‌তে চায়। র‌হিমা তা‌কে প্রত্যাক্ষান ক‌রে। কারন পুরুষ‌দের সে একটু বে‌শি ভয় পায়, অ‌বিশ্বাস ক‌রে।

রা‌ফির হঠাৎ খুব জ্বর। অসুস্হ বাচ্চা‌রে‌খে র‌হিমা কা‌জে ও যে‌তে পার‌ছেনা । বাচ্চা‌কে ডাক্তার দেখা‌নোর ক্ষমতা না থাকার পাশাপাশি তা‌কে খাওয়া‌নোর ক্ষমতা নায় র‌হিমার। সা‌থে সা‌থে সমা‌জের নোংরা মানু‌ষের লোভনীয় দৃ‌ষ্টি রা‌তের ঘুম হারাম ক‌রে‌ছে রহিমার। গ্রা‌মের এক প্রভাবশালীর নজর প‌ড়ে‌ছে র‌হিমার উপর। এবার তার অার রক্ষা নায়। কিছু একটা সিদ্ধান্ত নি‌তে হ‌বে তার।

রা‌তে রা‌ফির জ্বরটা খুব বে‌ড়ে‌ছিল। র‌হিমা খুব ভয় পে‌য়ে‌ছে। চি‌কিৎসার ক্ষমতা না থাকার পাশাপা‌শি রা‌ফির ক্ষুধা মেটা‌নোর ক্ষমতা তার নেয়। তার উপর হা‌য়েনা‌দের নজর প‌ড়ে‌ছে র‌হিমার শরী‌রে। সকা‌লে অালমগীর এসে‌ছে খাবার নি‌য়ে, সা‌থে এ‌নে‌ছে র‌হিমার জন্য প্রস্তাব।
অালমগীর রা‌ফির বাবা হ‌তে চায়। র‌হিমা কিছুই বল্লনা।
অালমগীর রা‌ফির সব চি‌কিৎসা খরচ দিল , হাসপাতা‌লে প‌রিচয় দিল রা‌ফি তার সন্তান। র‌হিমা নিরব থাকা হয়ত ব‌লে দিল অালমগীর‌কে তার প্রস্তাব মে‌নে নেওয়া। কিন্তু র‌হিমার কা‌ছে এটা কোন ভা‌লোলাগা বা ভা‌লোবাসা ছিলনা, পুরুষ‌দের অাজ সে বড্ড বে‌শি ভয় পায়। সব কিছু মে‌নে নেওয়া শুধু তার রা‌ফি‌কে দু‌বেলা মু‌খে ভাত তু‌লে দেবার জন্য, রা‌ফি-র‌হিমার বেঁ‌চে থাকার জন্য।

অালমগী‌রের ঘ‌রে র‌হিমা অার রা‌ফির নতুন জীবন শুরু হয়। র‌হিমা তার সন্তা‌নের নতুন প‌রিচয় নি‌য়ে খুব খু‌শি ছিল। ‌কিছু‌দিন পর অালমগীর র‌হিমা‌কে ব‌লে সে রা‌ফি‌কে তার বো‌নের বাড়ী নি‌য়ে যে‌তে চায়। কিন্তু র‌হিমা‌কে এখন সে নি‌বে না।

রা‌ফির বয়স এখন চার বছর। ছোট্ট রা‌ফি‌কে নি‌য়ে অালমগীর তার বো‌নের বাড়ী যাবার নাম ক‌রে বের হয়। অার সেখা‌নে রা‌ফি‌কে রে‌খে অা‌সে অালমগীর । ছোট্ট রা‌ফি বুঝ‌তেও পা‌রে না তার সা‌থে কি ঘট‌ছে। অালমগীর তা‌কে ব‌লে যায় কিছু‌দিন প‌রে এ‌সে নি‌য়ে যা‌বে রা‌ফি‌কে। কিন্তু সে রা‌ফি‌কে কাজ করার জন্য অ‌নি‌র্দিষ্ট কা‌লের জন্য বি‌ক্রি ক‌রে দেয় রা‌ফি‌কে। মা‌লি‌কেরা স্বামী-স্ত্রী দুজনই চাকরী করায় রা‌ফি‌কে তালা বন্দী ক‌রে রাখ‌তো সারা দিন। তার পরও রা‌ফি অ‌পেক্ষা করত হয়ত এক‌দিন তার মা এ‌সে তা‌কে নি‌য়ে যা‌বে। কিন্তু এর পর অার রা‌ফির মা‌য়ের সা‌থে দেখা হয়‌নি।

রা‌ফির বয়স এখন ছয় বছর। ও এখন অা‌মি যে বাড়ী‌তে ভাড়া থা‌কি সে বাড়ীওয়ালার বাসায় কাজ ক‌রে। অা‌গেও সে কিছু বাসায় কাজ ক‌রে‌ছে। সেগু‌লো ছিল তার গ্রা‌মের এলাকায়। তাই মা‌য়ের সা‌থে দেখা হওয়ার সম্ভবনা বে‌শি ছিল। কিন্তু এখনতো সে ঢাকা শহ‌রে। এর অা‌গে যে বাসায় কাজ করত তারা এক‌দিন রা‌ফি‌কে রা‌তের বেলায় ঘর থে‌কে বের ক‌রে দেয়। সারা রাত বাচ্চা মে‌য়েটা বা‌হি‌রে থা‌কে। কেউ একজন তা‌কে এই বাসা‌তে দি‌য়ে গে‌ছে। এখা‌নে হয়ত রা‌ফি ভা‌লোই অা‌ছে। এই বাসা‌তে রা‌ফির মত অারও দুইটা বাচ্চা অা‌ছে । তা‌দের সা‌থে খে‌লে রা‌ফি। বাচ্চা দুইটা বো‌ঝেনা যে কা‌জের মে‌য়ের সা‌থে খেল‌তে নেয়। তাই প‌রিবা‌রের সবাই নি‌ষেধ করার স‌ত্ত্বেও ওরা রা‌ফির সা‌থে খেল‌তে চায়। অবশ্য এর জন্য রা‌ফি‌কে সবসময় বকা শুন‌তে হয়।

রা‌ফির কা‌ছে অা‌মি শু‌নে‌ছিলাম ওর বাবা-মা এর নাম কি? কিন্তু রা‌ফিরা তো বাবা- মা এর নাম জা‌নেনা। অবাক হ‌লেও এটাই সত্য যে রা‌ফি অামা‌কে ব‌লে‌ছিল ও নাম জা‌নেনা। ত‌বে ও এখনও বিশ্বাস ক‌রে ওর মা এক‌দিন ও‌কে নি‌তে অাস‌বে। রা‌ফি অামা‌কে বড় অাপু ব‌লে ডা‌কে। য‌দিও রা‌ফি‌দের জন্য কিছু করার ক্ষমতা অামার নাই , তারপরও এরাই অামা‌কে বে‌শি ভা‌লোবা‌সে। ক্ষমতা না থাক‌লেও অামার ম‌নে হয়, পারব‌কি অা‌মি রা‌ফি‌দের মত বাচ্চা‌দের বড় অাপু হ‌তে,,,,,,,

রাস্তার ধা‌রে বেলকু‌নি ধ‌রে দা‌ড়ি‌য়ে থা‌কে রা‌ফি। হাজার মানু‌ষের ভি‌ড়ে চোখ দু‌টি তার কা‌কে জা‌নি খু‌জে সবসময়। হয়ত ও ভা‌বে এই রাস্তা দি‌য়ে ওর মা এ‌সে এক‌দিন হয়ত ও‌কে নি‌য়ে যা‌বে। কিন্তু কেউ অার অা‌সেনা রা‌ফি‌কে নি‌তে। জা‌নিনা রা‌ফির মা‌য়ের সা‌থে অার দেখা হ‌বে কিনা। হয়ত হ‌বে, হয়তবা হ‌বেনা………..